|
ঢাকা, ২৯ জুলাই (শীর্ষ নিউজ ডটকম): সর্বনিম্ন তিন হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণ করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামোর খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে খসড়া প্রকাশ করেন।নতুন মজুরি কাঠামোয় সর্বনিম্ন ৬৭ দশমিক ২৪ থেকে সর্বোচ্চ ১০৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রী ও মালিক প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্যে
জানিয়েছেন, আগামী ১ নভেম্বর থেকে এটি কার্যকর করা হবে। খসড়া ও কার্যকরের সময়সূচি শ্রমিক প্রতিনিধিরা মেনে নিয়েছেন। খসড়া অনুযায়ী- এ সেক্টরের শিক্ষানবিশ শ্রমিকদের মজুরি ধরা হয়েছে সর্বসাকুল্যে ২৫শ’ টাকা। এরা গ্রেডভুক্ত নন। তাদের মজুরি বৃদ্ধির হার শতকরা ১০৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। সপ্তম গ্রেডে তিন হাজার টাকা (শতকরা ৮০ দশমিক ৪৫ শতাংশ), ষষ্ঠ গ্রেডে তিন হাজার ২৮০ টাকা (শতকরা ৭৩ দশমিক ৪২ শতাংশ), পঞ্চম গ্রেডে তিন হাজার ৪৫৫ টাকা (৬৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ), চতুর্থ গ্রেডে তিন হাজার ৭৬৩ টাকা (শতকরা ৬৭ দশমিক ২৪ শতাংশ), তৃতীয় গ্রেডে চার হাজার ১২০ টাকা (৬৮ দশমিক ২৩ শতাংশ), দ্বিতীয় গ্রেডে সাত হাজার দুইশ’ টাকা (শতকরা ৮৭ দশমিক ৫০ শতাংশ) ও প্রথম গ্রেডে নয় হাজার তিনশ টাকা (শতকরা ৮০ দশমিক ৯৩ শতাংশ) নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রেডভুক্ত শ্রমিকরা ন্যূনতম বেতনের সাথে আইনানুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। খসড়ায় মালিক পক্ষে বিজিএমইএ সহ-সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, শ্রমিক পক্ষে হাবিবুর রহমান সিরাজ, শামসুন্নাহার ভূইয়া স্বক্ষর করেন। এ সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য সর্বশেষ ২০০৬ সালে মজুরি কাঠামো করা হয়। ওই কাঠামো অনুযায়ী সপ্তম গ্রেডের একজন শ্রমিককে সর্বনিম্ন এক হাজার ৬৬২ টাকা মজুরি দেয়া হতো। বৃহস্পতিবার খসড়া মজুরি কাঠামো ঘোষণার সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান, শ্রম ও কর্মসংস্থান সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান ইসরাফিল আলম, নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান ইকতেদার আহমেদ, এফবিসিসিআই সভাপতি এ কে আজাদ, বিজিএমইএ সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদি, বিকেএমইএ সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান, শ্রমিক প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান সিরাজ, সামসুন্নাহার ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। প্রকাশিত খসড়া প্রসঙ্গে মালিক প্রতিনিধি আবদুস সালাম মুর্শেদি বলেন, মালিক, শ্রমিক ও সরকারের মাঝে আলোচনার ভিত্তিতেই ন্যূনতম বেতন কাঠামো ঘোষিত হয়েছে। এটা বাস্তবায়নের জন্য তারা অপরাপর মালিকদের উৎসাহিত করবেন। শ্রমিকরাও এটা মেনে নেবেন বলে তিনি মনে করেন। শ্রমিক প্রতিনিধি সেলিমা আক্তার বলেন, তাদের দাবি ছিল সর্বনিম্ন মজুরি পাঁচ হাজার টাকা। এরপর যা হয়েছে, তা সমঝোতার ভিত্তিতে হয়েছে। এটা তারা মেনে নিচ্ছেন। অপর প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান সিরাজ বলেন, ঘোষিত মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নে কোনো শর্ত শ্রমিকরা মেনে নেবে না। (শীর্ষ নিউজ ডটকম/ আরএইচ/ আরআর/ সস/ ১৮:৪৯ ঘ.) |