|
জাকের হোসাইন, ২৯ জুলাই (শীর্ষ নিউজ ডটকম) : সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রসঙ্গে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আইনবিদরা। সামরিক শাসন সম্পর্কে আপিল বিভাগ যে অভিমত দিয়েছেন সে ব্যাপারে বেশিরভাগ আইনবিদ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তবে তাদের প্রশ্ন- সামরিক শাসকরা কি সুপ্রিম কোর্টের রায় পড়ে ক্ষমতা দখল করবেন? প্রবীন আইনজীবী ও বিএনপির উপদেষ্টা টি এইচ খান রায় প্রসঙ্গে বলেন, সংসদ
সার্বভৌম। সুতরাং প্রধানমন্ত্রী চাইলেই আল্লার ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি রেখে দিতে পারেন। সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম জনসংখ্যার দেশ হওয়ার কারণে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বিষয়াবলী মুছে ফেলা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। আপিল বিভাগের দেয়া এ রায়কে সরকার গণভোট এড়ানোর জন্য ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেন টি এইচ খান। তিনি বলেন, যখন দেশে অন্য কোনো আইন কাজ করে না তখন মার্শাল ল আসে। আর মার্শাল ল আসলে কাউকে জিজ্ঞেস করে আসেনা। যদি ২৮ অক্টোবরের মতো আবার ঘটনা ঘটে তাহলে সেনাবাহিনী কি বসে থাকবে? তারা তো সংবিধান স্থগিত করেই ক্ষমতা দখল করবে। তখন সংবিধান সংশোধনের কি হবে? তিনি আরো বলেন, সামরিক শাসন সম্পর্কে কিছু পর্যবেক্ষণ আছে তা মানা পার্লামেন্টের জন্য যদি বাধ্যতামূলক হয় তাহলে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ এবং তার সহযোগীদের ব্যাপারে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে। জিয়াউর রহমান বিচারকদের ব্যাপারে যে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা আপিল বিভাগ গ্রহণ করেছে। অথচ জনগণের পক্ষের বিষয়গুলো বাতিল করেছে বলে দাবি করেন বিএনপির এই প্রভাবশালী নেতা। রায় প্রসঙ্গে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. এম জহির বলেন, রায় ভালোই হয়েছে। সংবিধানের কিছু কিছু ধারা বহাল রেখেছে। জাতীয়তার বিয়য়টি যার যার নিজস্ব বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের ৫ম সংশোধনী বাতিল করা হলো। তাহলে বাঙালিত্ব থেকে বাংলাদেশি উঠে গেলো না কেন। এটা তো পাসড এন্ড ক্লোসড- এর বিষয় নয়। এটা মামলার সঙ্গেও সম্পর্কিত নয়। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হবে কিন্তু ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ হবে কী না এটা বলা যাচ্ছে না। এই রায়ের মধ্য দিয়ে সংবিধানে কোন বিষয় পুনর্বহাল করা হবে তা বিল আকারে আসবে না আইন আকারে আসবে সেটা সংসদীয় কমিটি নির্ধারণ করবে বলে জানান তিনি। বিএনপি নেতা ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, একজন আইনজীবী হিসেবে আমি রায় মেনে নিয়েছি। রায় বাস্তবায়নে সরকার কি পদক্ষেপ নেয় এখন সেটা দেখার বিষয়। ইস্যুটি যখন রাজনৈতিক বিষয়ে পরিণত হবে তখন রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেয়া হবে বলে জানান তিনি। রায় অনুযায়ী বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নায়ক মইন উ আহমেদ সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতায় থাকা ও ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হওয়ায় মইন উ আহমেদ ও নির্বাচন কমিশন উভয়ের শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। ৫ম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পরেও সংশোধনীর কিছু জিনিস রাখা কিছু জিনিস বাদ দেয়াকে দ্বৈত নীতি বলে বর্ণনা করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন। আইনজীবীরা বলেন, একদিকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহ থাকছে, আবার ধর্মনিরপেক্ষতাও থাকছে এটা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে। সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক সম্পাদক শ.ম. রেজাউল করিম আপিল বিভাগের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। কেননা বাংলাদেশ সৃষ্টির মূল ভিত্তি মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তি যুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে প্রণীত সংবিধান পুনরুজ্জীবিত হলো। এছাড়া অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখলকে বৈধ করার চেষ্টা এই রায়ের মাধ্যমে চিরতরে বন্ধ হবে বলে মনে করেন তিনি। এই ঘটনা যারা ভবিষ্যতে ঘটাবে তারা শাস্তিযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত হবে এটি এই রায়ের উল্লেখ্যযোগ্য দিক। (শীর্ষ নিউজ ডটকম/জেডএইচ/জেএ/এসসি/১৯:৪৬ঘ.) |