|
১১ বছরেও সিলেটের ৩ সীমান্তনদীর জরিপ শুরু হয়নি |
|
অপূর্ব শর্মা, ৩০ জুলাই (শীর্ষ নিউজ ডটকম): প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের অভাবে দীর্ঘ ১১ বছরেও সীমান্ত এলাকার ৩ নদীর জরিপ শুরু করা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের সিলেট ও ভারতের আসাম অঞ্চলের তিনটি সীমান্ত নদী বরাক, কুশিয়ারা ও সুরমার মডেল স্টাডিও একই কারণে শুরু করা যায়নি। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড জরিপ পরিচালনার জন্য ২৫ লাখ টাকার একটি প্রস্তাবনা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠালেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
ভারতের মণিপুর রাজ্যের একটি পাহাড়ি নদীর নাম বরাক। নদীটির দুটি শাখা জকিগঞ্জের আমলসীদ সীমান্তে সুরমা ও কুশিয়ারা নাম ধারণ করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এ দুটি নদীর একটি সাড়ে ৪০ কিলোমিটার এবং অপরটি ২৬ কিলোমিটার অভিন্ন সীমান্ত নদী হিসাবে চিহ্নিত। জরিপ না হওয়ায় ও খননের অভাবে সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পানির ৮০ ভাগ কুশিয়ারা দিয়ে ও ২০ ভাগ সুরমা নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ কারণে কুশিয়ারা নদী খরস্রোতা হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে অনুষ্ঠিত ১৩তম যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) বৈঠকে প্রথমবারের মতো নদী তিনটি ড্রেজিং করার সিদ্ধান্ত হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল কুশিয়ারার ভয়াবহ ভাঙনের হাত থেকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড রক্ষা করা, কুশিয়ারা ও সুরমায় পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি করা এবং বরাক উপত্যকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রাখা। পরে ২০০৩ সালে এ তিনটি সীমান্ত নদী জরিপ করার সিদ্ধান্ত হয়। এর অংশ হিসেবে ২০০৫ সালে বাংলাদেশের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ভারতের শিলচরে যায়। শিলচর বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে আসাম সরকার ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাসে জরিপ পরিচালনার অনুমতি চেয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি চিঠি দেয়। কিন্তু জরিপ পরিচালনার ব্যাপারে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রিন সিগন্যাল না পাওয়ায় প্রকল্পটি wejw¤^Z হয়। ২০০৮ সালের ১৮ মার্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদের সিলেট সফরের সময় পাউবোর কর্মকর্তারা বিষয়টি তার নজরে আনেন। এ প্রসঙ্গে পাউবো সিলেটের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, প্রকল্পটি এখনো ভারত সরকারের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় আছে। সিলেটের জেলা প্রশাসক সাজ্জাদুল হাসানের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। (শীর্ষ নিউজ ডটকম/ এএস/ আরআর/ এনএম/ ০০:০২ ঘ.) |